জাতীয়

মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধে নেতৃত্ব দিয়েছেন এই মন্ত্রী

আবারও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন গাজীপুর-১ আসন থেকে টানা তিনবারের সংসদ সদস্য আ ক ম মোজাম্মেল হক। একাত্তরে গাজীপুর থেকে দেশের সর্বপ্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধের

খেলাধূলা

সিরিজ হারের পর দুই ক্রিকেটারকে ধুয়ে দিলেন রিকি পন্টিং

ভারত এবং অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার চার ম্যাচ টেস্ট সিরিজের চতুর্থ ও মহাগুরত্বপূর্ন ম্যাচটি ড্র হয়েছে। বৃষ্টির দাপটে অধিকাংশ সময়ই ভেসে যাওয়ায় ম্যাচটি ড্র ঘোষণা করে আম্পায়াররা।

বিনোদন

মাঠেই বিরাটকে জড়িয়ে ধরে আনুশকার কান্না!

বিরাট কোহলির হাত ধরে অধরা ইতিহাসকে ছুঁয়ে ফেলল ভারতীয় ক্রিকেট দল। ইতিহাসে প্রথম বার অস্ট্রেলিয়ার মাটি থেকে টেস্ট সিরিজ জিতে ফিরছে ভারত। আর সে ম্যাচের

প্রবাসীদের খবর

সিরিজ হারের পর দুই ক্রিকেটারকে ধুয়ে দিলেন রিকি পন্টিং

ভারত এবং অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার চার ম্যাচ টেস্ট সিরিজের চতুর্থ ও মহাগুরত্বপূর্ন ম্যাচটি ড্র হয়েছে। বৃষ্টির দাপটে অধিকাংশ সময়ই ভেসে যাওয়ায় ম্যাচটি ড্র ঘোষণা করে আম্পায়াররা। আর এই ড্রয়ের ফলে ২-১ ব্যবধানে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জিতে ইতিহাস গড়ল ভারত।

৭১ বছর পরে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জয়ের দেখা পেল ভারত। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার এমন রূপ থেকে স্বাভাবিকভাবেই মন খারাপ করার কথা সাবেক অজি ক্রিকেটারদের। অস্ট্রেলিয়ার সামনে সুযোগ ছিল সিরিজ ড্র করার। কিন্তু বৃষ্টি বিরূপ আচরণ করলো পেইনদের সঙ্গে। শেষ টেস্ট ড্র হওয়ায় সিরিজ জিতে নিল ভারত।

অস্ট্রেলিয়ার এমন অসহায় আত্মসমর্পন দেখে নিজেকে আর সামলাতে পারলেন না সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক রিকি পন্টিং। এমন অস্ট্রেলিয়াকে দেখতে চান না বলেই জানিয়ে দিলেন তিনি। একইসঙ্গে নাথান লিওন এবং মিচেল স্টার্কের আচরণের কারণে ক্ষেপেছেন তিনি।

নিজেদের প্রথম ইনিংসে কুলদীপ যাদবের বলে নাথান লিওন এলবিডব্লিউ হয়ে যান এবং আম্পায়ার ইয়ান গোল্ড আঙ্গুল তুলে দেন। লায়ন কোনো চ্যালেঞ্জ করেননি এবং নন-স্ট্রাইকিং প্রান্তে থাকা মিচেল স্টার্কও কোনো পরামর্শ দেননি। তাদের হাতে দুটি রিভিউ বাকি ছিল। রিভিউ ব্যবহার করলে হয়তো আউটের সিদ্ধান্ত পালটানো যেত। কিন্তু আউটটা বিনা বাক্যব্যায়ে মেনে নিলেন।

এ প্রসঙ্গে পন্টিং বলেন, ‘লিওনের আউটটির মাধ্যমেই আমার কাছে এই দলটি সম্পর্কে পুরোপুরি বার্তা চলে আসে, যে এই দলটি কি অবস্থায় রয়েছে। তাদের মানসিক অবস্থা কি ছিল এই ম্যাচে, সেটাও স্পষ্ট হয়ে যায়। তাদের মধ্যে কোনো নিবেদন কিংবা খেলায় এমন বাজে পরিস্থিতিতে যেভাবে হতাশা তৈরি হয়, তার কিছুই দেখিনি।’

তিনি আরো বলেন, ‘কেন তাদেরকে এমন দেখা যাচ্ছে? কেন খেলায় তাদের মনোনিবেশ নেই? নিজেদের হাতে দুটি রিভিউ থাকা সত্ত্বেও কেন সেগুলোর ব্যবহার করলো না? তাদের মানসিকতা নিয়েই এখন সন্দেহ তৈরি হয়েছে।’

স্মিথের বিরুদ্ধে কোচের কাছে তামিমের অভিযোগ!

ফিল্ডিংয়ের সময় নিজ দলের ক্রিকেটারদের মাঠের একপ্রান্ত থেকে বার বার অন্য প্রান্তে নিচ্ছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের অধিনাযক স্টিভেন স্মিথ। আর এমন ছুটাছুটির শিকার বেশি হয়েছিলেন কুমিল্লার সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। এক পর্যায়ে কোচের কাছে বলছিলেন, “স্যার আমাকে এতো দৌড়াচ্ছে ও!”

স্টিভেন স্মিথের চিন্তাশীল ও সক্রিয় নেতৃত্বে এমন ছুটোছুটি করতে হয়েছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের সব ফিল্ডারকে। সবাইকে দলে সম্পৃক্ত করার এই যে চেষ্টা অধিনায়কের, সেটি খুব ভালো লেগেছে কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) এবারই প্রথমবারের মতো আসা। আর প্রথম বারেই নেতৃত্বের ব্যাটন উঠেছে সাবেক অজি ক্যাপ্টেনের কাঁধে। তামিমকে বাদ দিয়ে স্মিথকে অধিনায়ক নির্বাচিত করায় বাংলাদেশের ড্যাশিং ওপেনারের ভক্তদের মন খারাপ। কিন্তু খান সাহেক তো নেতৃত্বের প্রতি কখনও খুব আগ্রহী নন।

কুমিল্লা তাই ভরসা রেখেছে স্মিথের ওপর। বল টেম্পারিং বিতর্কে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটে নিষিদ্ধ হয়েছেন, কিন্ত তার আগে নেতৃত্বে যথেষ্টই সফল ছিলেন এই স্টাইলিশ ব্যাটসম্যান।

বিপিএল শুরুর মাত্র দুই দিন আগে দলে যোগ দিলেও স্মিথকে মাঠে দেখা গেছে বেশ প্রাণবন্ত। পুরোপুরি কর্তৃত্ব পেতে, সতীর্থদের বুঝে উঠতে সময় লাগবে কিছুটা। কিন্তু নিজের ছাপ রাখতে শুরু করেছেন প্রথম ম্যাচ থেকেই। রোববার সিলেট সিক্সার্সের বিপক্ষে কুমিল্লার জয়ে তার বোলিং পরিবর্তন, মাঠ সাজানো ছিল দারুণ।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লার কোচ সালাউদ্দিন জানালেন, প্রথম ম্যাচে স্মিথের নেতৃত্ব তার দারুণ লেগেছে। সাবেক অজি ক্যাপ্টেনেকে প্রশংসায় ভাসান সালাউদ্দিন। বলেন, ‘তামিমের খুব কষ্ট হয়েছে আজকে। ও আমাকে বলেছে, ‘স্যার, স্মিথ আমাকে এতো দৌড়াচ্ছে!’ সবাইকে ও (স্মিথ) খুব সম্পৃক্ত রেখেছে। এটা খুব ইতিবাচক। ছেলেদের কষ্ট হবে, বুঝতে পারছি এখনই। যারা ভালো ফিল্ডার, বাইরে তাদের অনেক দৌড়াদৌড়ি করতে হবে।’

বিপিএলে স্মিথের অভিষেক হলেও খুব তাড়াতাড়ি সবাইকে মানিয়ে নিয়েছেন। ভিক্টোরিয়ান কোচের ভাষায়, ‘ও প্রত্যেকটা খেলোয়াড়কে অনেক বেশি সম্পৃক্ত করে রেখেছে। এটা খুব ভালো দিক। সে অনেক বেশি অভিজ্ঞ। বিদেশি আরও অনেকের মতো ওর হয়তো এখানে খেলার অভিজ্ঞতা এতটা নেই। তবে এই টুর্নামেন্টে ভালো খেলার জন্য ও নিজেও বেশ উদগ্রীব।

ওয়ার্নারের নজরে পড়ল যে টাইগার ক্রিকেটার

সিলেট এবং কুমিল্লার মধ্যকার ম্যাচটিতে দুই অজি তারকা ক্রিকেটার ডেভিড ওয়ার্নার এবং স্টিভ স্মিথের প্রতিই বেশি নজর ছিলো ক্রিকেট প্রেমিদের। কিন্তু তাঁদের কেউই নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। ওয়ার্নার ১৪ এবং স্মিথ ১৬ রান করে আউট হয়েছেন আজ। উল্টো তাঁদের পরিবর্তে পাদপ্রদীপের আলোয় উঠে এসেছিলেন পাকিস্তানি তারকা অলরাউন্ডার শহীদ আফ্রিদি।

কেননা সিলেটের ছুঁড়ে দেয়া ১২৮ রানের লক্ষ্যে খেলতে নামার পর যখন ৯৭ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিলো কুমিল্লা তখনই ত্রাণকর্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন আফ্রিদি। মাত্র ২৫ বলে ৩৯ রানের বিধ্বংসী একটি ইনিংস খেলার মাধ্যমে দলকে এক বল হাতে রেখেই ৪ উইকেটের দারুণ একটি জয় এনে দিয়েছেন তিনি। হাঁকিয়েছেন ২টি ছয় এবং ৫টি চার। অলোক কাপালির করা ২০তম ওভারের পঞ্চম বলটি সীমানা ছাড়া করে জয় নিশ্চিত করেছিলেন আফ্রিদি।

ফলে নিজেদের প্রথম ম্যাচে শুভ সূচনাই পেলো স্টিভ স্মিথের কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।তবে আফ্রিদি জয়ের নায়ক হলেও পার্শ্বনায়ক ছিলেন টাইগার ওপেনার তামিম ইকবাল। তাঁর ৩৪ বলে ৩৫ রানের দায়িত্বশীল ইনিংসটি জয়ের ভিত গড়তে অনেকটাই সাহায্য করেছিলো। আর তাই তো ওয়ার্নারের নজরে পড়েছেন এই টাইগার ক্রিকেটার।

মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধে নেতৃত্ব দিয়েছেন এই মন্ত্রী

আবারও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন গাজীপুর-১ আসন থেকে টানা তিনবারের সংসদ সদস্য আ ক ম মোজাম্মেল হক। একাত্তরে গাজীপুর থেকে দেশের সর্বপ্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধের নেতৃত্ব দেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালনকারী এই নেতা।

আজ সোমবার (৭ জানুয়ারি) বিকাল ৩টা ৪০ মিনিটে নতুন সরকারের মন্ত্রীপরিষদের অন্য সদস্যদের সাথে শপথ নেন প্রবীণ এই মন্ত্রী। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে গাজীপুর-১ আসনে চমক দেখিয়েছেন সজ্জন ও সৎ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত মোজাম্মেল হক। প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীকে তিন লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে হেট্রিক জয় পান নৌকা প্রতীকের এই প্রার্থী।

মোজাম্মেল হক ১৯৪৬ সালের ১ অক্টোবর গাজীপুর সদর উপজেলার দাখিণ খান গ্রামে জন্ম নেন। তার বাবার নাম মরহুম ডা. আনোয়ার আলী ও মাতার নাম মরহুমা রাবেয়া খাতুন।

ছাত্রাবস্থায় পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটিরি সহ-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এছাড়া তৎকালীন গাজীপুর মহকুমা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন।

একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি গাজীপুরের প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশ নিয়ে সশস্ত্র প্রতিরোধ কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯ মার্চ গাজীপুর থেকে দেশের সর্বপ্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধের নেতৃত্ব দেন। যুদ্ধের পর ১৯৭৬ সাল থেকে তিনি গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭৩ থেকে ১৯৮৬ পর্যন্ত গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, ১৯৮৯ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত গাজীপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান ও মেয়র পদে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০০৮ সালের নির্বাচনে গাজীপুর-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের টিকেটে জয়ী হন। এ সময় তিনি সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মোজাম্মেল হক ২০১৪ সালের নির্বাচনেও জয়ী হন। ওই নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূ্র্ণ অবদান রাখায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করেন।

বিদায় বেলায় মন্ত্রীদের ঘিরে সেই ভিড় নেই!

সোমবার বেলা সোয়া ২টা, লিফট থেকে নেমে গাড়ি বারান্দায় দাঁড়ালেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী শাহজাহান কামাল। পাশে দাঁড়ানো সরকারি এক কর্মকর্তাকে নিজের মোবাইল ফোনটি এগিয়ে দিয়ে একটি নম্বর সেভ করে দিতে বললেন। জী স্যার, এক্ষুনি দিচ্ছি বলে ওই কর্মকর্তা নম্বর সেভ করতে ব্যস্ত হলেন। এ সময় গাড়ির অপেক্ষায় মন্ত্রী একাই দাঁড়িয়ে রইলেন। ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে জাতীয় পতাকাবাহী গাড়ি এসে বারান্দায় থামলে মন্ত্রী এগিয়ে যান। এ সময় তাকে গাড়িতে তুলে দিতে হাতেগোনা ৩/৪ জনকে এগিয়ে আসতে দেখা যায়। গাড়িতে উঠে মন্ত্রী হিসেবে সচিবালয় থেকে বিদায় নেন তিনি।মিনিট ১৫ পর নেমে আসেন মুজিব কোট পরিহিত শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তাকে গাড়ি পর্যন্ত তুলে দিতে ৭/৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে এগিয়ে আসতে দেখা যায়। গাড়িতে উঠে তিনি হাত নেড়ে বিদায় জানিয়ে সচিবালয় থেকে বেরিয়ে যান।

এ দৃশ্যপট আজ (সোমবার) সচিবালয়ের ভিতরের। মন্ত্রী হিসেবে শেষ দিনে বিদায় নিতে বেশ কয়েকজন মন্ত্রী আজ সচিবালয়ে আসেন। বিগত দিনগুলোতে মন্ত্রীকে বিদায় জানাতে অসংখ্য লোকজনের ভিড় থাকলেও আজ তা দেখা যায়নি।একদিকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীদের বিদায় অনুষ্ঠান চলছিল, অন্যদিকে নতুন মন্ত্রীদের দফতর সাজাতে কর্মকর্তাদের অধিক ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। এ সময় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে লোকজনের উপস্থিতি খুবই কম দেখা যায়।সোমবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত সচিবালয়ে অবস্থানকালে দেখা গেছে পিয়ন, চাপরাশি, ড্রাইভার থেকে শুরু করে সবার মাঝে রোববার (৬ জানুয়ারি) মন্ত্রী পরিষদ সচিব ঘোষিত নবগঠিত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা কে কেমন, মন্ত্রিসভা কেমন হয়েছে, হেভিওয়েট মন্ত্রীদের বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক হলো কি-না তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে।

বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেয়াই স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মোশারারফ হোসেন, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের মন্ত্রীত্ব হারানো নিয়ে তুমুল আলোচনা ও মন্তব্য শোনা যায়।
দুপুর দেড়টার দিকে অর্থ প্রতিমন্ত্রী মান্নান খানকে (নতুন পরিকল্পনা মন্ত্রী) সচিবালয় থেকে বের হতে দেখা যায়। গাড়িতে ওঠার সময় বেশ কয়েক জন কর্মকর্তা তার সঙ্গে সেলফি তোলার অনুরোধ জানান। মন্ত্রী তাদের সে বায়না মেটাতে সেলফি তোলার সুযোগ দেন।

দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত অর্থমন্ত্রী এম এ মুহিত সচিবালয়ে অবস্থান করছিলেন। কিছুক্ষণ পর পর তার গাড়িতে বিদায় অনুষ্ঠানের ফুলের তোড়া ও মানপত্র তুলতে দেখা যায়।

মন্ত্রী হলে যে সমস্ত সুযোগ সুবিধা পাওয়া যায়

একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর সোমবার বিকালে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশের নতুন মন্ত্রিপরিষদ।আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন এই মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী মিলিয়ে ৪৭ সদস্য আজ শপথ গ্রহণ করতে যাচ্ছেন।বাংলাদেশে একজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীর বেতন ভাতা কেমন? এর বাইরে তারা কি কি সুযোগ সুবিধা পান।

প্রধানমন্ত্রীর বেতন ভাতা:
দ্য প্রাইম মিনিস্টার’স (রেমুনারেশেন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০১৬ অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বেতন মাসে এক লাখ ১৫ হাজার টাকা। এছাড়া তিনি মাসিক বাড়ি ভাড়া পান এক লাখ টাকা, দৈনিক ভাতা পান তিন হাজার টাকা।

মন্ত্রীর বেতন ভাতাঃ
দ্য মিনিস্টারস, মিনিস্টার অব স্টেট অ্যান্ড ডেপুটি মিনিস্টারস (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০১৬ অনুযায়ী, একজন মন্ত্রী বেতন পান মাসিক এক লাখ পাঁচ হাজার টাকা। ডেপুটি স্পিকার, বিরোধী দলীয় নেতা এবং চিফ হুইপরাও সমান বেতন পান।

মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী কাউকেই তাদের বেতনের জন্য কোন কর দিতে হয় না।

এছাড়া একজন মন্ত্রী আরো যেসব সুবিধা পান:
দৈনিক ভাতা: দুই হাজার টাকা
নিয়ামক ভাতা: মাসিক ১০ হাজার টাকা
স্বেচ্ছাধীন তহবিল: ১০ লাখ টাকা
মোবাইল ফোন কেনার জন্য ৭৫ হাজার টাকা
সরকারি খরচে সার্বক্ষণিক গাড়ি। ঢাকার বাইরে অফিসিয়াল ট্যুরের জন্য অতিরিক্ত একটি জিপ গাড়ি পাবেন, যার যাবতীয় খরচ সরকার বহন করবে।

সরকারি খরচে রেল ভ্রমণ ও বিদেশ ভ্রমণ
বিনা ভাড়ায় সরকারি বাসভবন: গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, টেলিফোনসহ ভবনটির যাবতীয় রক্ষণাবেক্ষণ সরকার বহন করবে
আসবাবপত্র: সরকারি বাসায় সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা মূল্যের আসবাবপত্র
সরকারি বাসায় না থাকলে: বাড়ি ভাড়া বাবদ ৮০ হাজার টাকা, সেই সঙ্গে বাড়ি ব্যবস্থাপনা খরচ ও সব ধরণের সেবা খাতের বিল
বিমান ভ্রমণের জন্য বীমা সুবিধা আট লাখ টাকা।

সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা প্রহরী

বাসস্থান থেকে অফিস বা অফিস থেকে বাসস্থানে যাতায়াতের খরচ পাবেন। নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের ভ্রমণ খরচও তিনি পাবেন। এছাড়া অন্তত দুইজন গৃহকর্মীর ভ্রমণের খরচ পাবেন।

উপ-সচিব পদমর্যাদার একজন একান্ত সচিব, সহকারী সচিব পদমর্যাদার একজন সহকারী একান্ত সচিব এবং ক্যাডারের বাইরে থেকে আরেকজন সহকারী একান্ত সচিব। জাতীয় বেতন স্কেলে দশম গ্রেডের দুইজন কর্মকর্তা।আরো পাবেন একজন জমাদার ও একজন আর্দালি, দুইজন এমএলএসএস, একজন পাচক বা পিয়ন।

প্রতিমন্ত্রীর বেতন ভাতা
প্রতিমন্ত্রীদের বেতন প্রতি মাসে ৯২ হাজার টাকা। এই আয়ের ওপর কোন কর নেই। এছাড়া তিনি আরো পাবেন:
দৈনিক ভাতা: দেড় হাজার টাকা
প্রতিমন্ত্রীর নিয়ামক ভাতা: ৭ হাজার ৫০০ টাকা
স্বেচ্ছাধীন তহবিল: সাড়ে ৭ লাখ টাকা
মোবাইল ফোন কেনার জন্য ৭৫ হাজার টাকা

বিনা ভাড়ায় সরকারি বাসভবন: গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, টেলিফোনসহ ভবনটির যাবতীয় রক্ষণাবেক্ষণ সরকার বহন করবে
আসবাবপত্র: সরকারি বাসায় সর্বোচ্চ চার লাখ টাকা মূল্যের আসবাবপত্র
সরকারি বাসায় না থাকলে: বাড়ি ভাড়া বাবদ ৭০ হাজার টাকা, সেই সঙ্গে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, টেলিফোনসহ সব ধরণের সেবা খাতের বিল ও বাড়ি ব্যবস্থাপনা খরচ

উপ-সচিব পদমর্যাদার একজন একান্ত সচিব, সহকারী সচিব পদমর্যাদার একজন সহকারী একান্ত সচিব এবং ক্যাডারের বাইরে থেকে আরেকজন সহকারী একান্ত সচিব। জাতীয় বেতন স্কেলে দশম গ্রেডের দুইজন কর্মকর্তা।

আরো পাবেন একজন জমাদার ও একজন আর্দালি, দুইজন এমএলএসএস, একজন পাচক বা পিয়ন।
উপমন্ত্রীর বেতন ভাতা

একজন উপমন্ত্রী বেতন পান ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা। তাকেও বেতন ভাতার জন্য কোন কর দিতে হবে না।
দৈনিক ভাতা: দেড় হাজার টাকা
নিয়ামক ভাতা: পাঁচ হাজার টাকা
স্বেচ্ছাধীন তহবিল: সাড়ে ৫ লাখ টাকা
মোবাইল ফোন কেনার জন্য ৭৫ হাজার টাকা
বিনা ভাড়ায় সরকারি বাসভবন: গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, টেলিফোনসহ ভবনটির যাবতীয় রক্ষণাবেক্ষণ সরকার বহন করবে
আসবাবপত্র: সরকারি বাসায় সর্বোচ্চ চার লাখ টাকা মূল্যের আসবাবপত্র

সরকারি বাসায় না থাকলে: বাড়ি ভাড়া বাবদ ৭০ হাজার টাকা, সেই সঙ্গে বাড়ি ব্যবস্থাপনা খরচ ও সব ধরণের সেবা খাতের বিল
সহকারী সচিব পদমর্যাদার একজন একান্ত সচিব, এবং ক্যাডারের বাইরে থেকে আরেকজন সহকারী একান্ত সচিব। এছাড়া একজন ব্যক্তিগত সহকারী, একজন জমাদার ও একজন আর্দালি, একজন এমএলএসএস, একজন পাচক বা পিয়ন।
মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি যারা সংসদ সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হয়েছে, তারা আরো কিছু অতিরিক্ত সুবিধা পাবেন।

এইমাত্র পাওয়া ব্রেকিং: নতুন যে কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামছে ঐক্যফ্রন্ট…জেনে নিন বিস্তারিত-

সদ্য অনুষ্ঠিত একাদশ নির্বাচনে ভরাডুবির পর রাজনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে চাচ্ছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। মাঠের কর্মসূচিতে জনগণকে সম্পৃক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জোটটির শীর্ষ নেতারা। আপাতত দেশব্যাপী বিক্ষোভ, অবস্থান ও গণসংযোগের মতো কর্মসূচি দেওয়ার বিষয়ে বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা একমত পোষণ করেন। আগামীকাল মঙ্গলবার ফ্রন্টের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সরকারবিরোধী আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারে জোটটি।

ঐক্যফ্রন্ট সূত্রে জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক ভোট ডাকাতির বিরুদ্ধে আন্দোলনে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করতে দেশব্যাপী গণসংযোগ করবেন ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা। জেলা, মহানগর, উপজেলা ও পৌরসভায় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে ভোট ডাকাতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ করতে উৎসাহিত করবেন তারা। শুধু স্বল্প সময়ের নয়, লাগাতার কর্মসূচিতে থাকতে চাইছেন বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্টের নেতারা।

এরই অংশ হিসেবে গতকাল রাজধানীর মতিঝিলে ঐক্যফন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নিজ চেম্বারে ফ্রন্টের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, একাদশ সংসদ নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিত ৭ জন শপথ নেবেন না। সারাদেশের নেতাকর্মীদের হতাশা কাটিয়ে উঠতে ও মনোবল চাঙ্গা করতে মাঠের কর্মসূচিতে থাকতে চান ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। গতকাল রবিবার ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের পর গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু জানান, আগামীকাল মঙ্গলবার নতুন কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে।

ওইদিন আমরা আবার বৈঠকে বসব। সেদিন সিদ্ধান্ত হবে নতুন কর্মসূচির। তিনি বলেন, গত ৩০ ডিসেম্বর ভোট ডাকাতি ও প্রহসনের সংসদ নির্বাচন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রত্যাখ্যান করেছে। এ প্রহসনের নির্বাচন আবার প্রমাণ করেছে, এ দেশে দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না। তাই নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আন্দোলনের কর্মসূচি চালিয়ে যাবে।

মাঠেই বিরাটকে জড়িয়ে ধরে আনুশকার কান্না!

বিরাট কোহলির হাত ধরে অধরা ইতিহাসকে ছুঁয়ে ফেলল ভারতীয় ক্রিকেট দল। ইতিহাসে প্রথম বার অস্ট্রেলিয়ার মাটি থেকে টেস্ট সিরিজ জিতে ফিরছে ভারত। আর সে ম্যাচের অধিনায়কত্বে ছিলেন বিরাট কোহলি। সেই ইতিহাস ছোঁয়ার সাক্ষী রইলেন আনুশকাও।

জয়ের সাফল্য। তাই আর বাধা মানল না আবেগ। মাঠেই ভারতের অধিনায়ক এবং স্বামী বিরাট কোহলিকে জড়িয়ে ধরলেন আনুশকা শর্মা। জানালেন শুভেচ্ছা।

এসময় দুজনেই আবেগে মাখামাখি। দু’জনের চোখেই জল। কেউ কিছু বলতে পারছেন না। এরপর আনুশকার মাথায় হাত রাখলেন বিরাট। দু’জনেই হেসেও ফেললেন।

বিরাট বরাবরই বলেন, আনুশকা তার জীবনের অন্যতম অনুপ্রেরণা। আর বিরাটের অধিনায়কত্বে ভারতের এই ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের সাক্ষী রইলেন স্ত্রী আনুশকাও। আবেগপ্রবণ হয়ে এভাবেই শুভেচ্ছা জানালেন বিরাটকে।

আনুশকা নিজেও ব্যস্ত, তবুও শিডিউল সামলে ক্রিকেট ম্যাচে উপস্থিত থেকে বিরাটকে অনুপ্রেরণা দেন। প্রচারমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে বিরাট সম্পর্কে বহু বার বলেন, ‘এই বিশ্বের সেরা মানুষটির সঙ্গেই বিয়ে হয়েছে আমার।’

সিডনিতে বৃষ্টিতে ম্যাচ ড্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ২-১ ফলাফলে সিরিজ জিতে নিল ভারত। শুধু তাই নয়, এশিয়ার প্রথম দল হিসেবেও অস্ট্রেলিয়ার মাঠে টেস্ট সিরিজ জিতল ভারত।

সিডনি টেস্ট ড্র হওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট সিরিজ ২-১’এ জিতে গেলো টিম ভারত। এর আগে প্রথম ইনিংসে ৬২২ রানের পাহাড় গড়ে কোহলি বাহিনী। জবাবে মাত্র ৩০০ রানেই প্রথম ইনিংসে অলআউট হয় অজিরা। ফলোঅনে পরে ২য় ইনিংসে ৬ রান তুলতেই শুরু হয় বৃষ্টি। পরে বৃষ্টি আর না থামলে ম্যাচ ড্র ঘোষণা করে ম্যাচ অফিশিয়ালরা।

অবসরে গিয়ে কি করবেন অর্থমন্ত্রী মুহিত? জানালেন নিজেই !!

আজ সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সভাকক্ষে অর্থমন্ত্রী এবং অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বিদায়ী অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলছেন, ‘আমাকে অনেকেই বলেন অবসরে কী করবো? বাংলাদেশের করার কোনো ক্ষেত্রের অভাব নেই। আমার সংগ্রহে ৫০ হাজার বই আছে। এগুলোর সবগুলো পড়া হয়নি। এগুলো পড়বো। আর আমি ৩৪টি বই লিখেছি। আরও বই লিখব।’

এ সময় মুহিত আরও বলেন, ‘আমরা গত ১০ বছরে বাংলাদেশকে ভিক্ষুকের দেশ থেকে উন্নতরণ ঘটিয়েছি। বিশ্বের কোনো দেশ বাংলাদেশকে ভিক্ষুকের দেশ বলতে সাহস পায়না। দেশকে এ অবস্থায় উন্নয়নে আমার অংশগ্রহণ থাকায় নিজেকে ধন্য মনে করছি। আমরা আগামী ৫ বছর ধারাবহিকভাবে তৃতীয়বার ক্ষমতায় থাকছি। আগামী ৫ বছরে দেশে এমন একটি জায়গায় যাবে, যাকে কেউ রোধ করতে পারবে না।’

এ সময় অনুষ্ঠানে মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, অর্থ সচিব আব্দুর রউফ তালুকদারসহ অর্থ মন্ত্রণালয়েল বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

‘আমার মৃত্যুর জন্য আমি দায়ী’, চিরকুট লিখে ছাত্রীর আত্মহত্যা‘আমার মৃত্যুর জন্য আমি দায়ী’, চিরকুট লিখে ছাত্রীর আত্মহত্যা

‘আমার ক্যান্সার, আমি বাঁচব না। আমার মৃত্যুর জন্য আমি নিজেই দায়ী’- চিরকুটে এ কথা লিখে আত্মহত্যা করেছেন শাপলা খাতুন (২৪) নামে এক কলেজ ছাত্রী।

রোববার রাতে শহরের শান্তিনগর মহল্লার একটি ছাত্রী মেস (ছাত্রী নিবাস) থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে।

শাপলা খাতুন জয়পুরহাট সদর উপজেলার দাদড়া-জন্তিগ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী এবং জয়পুরহাট সরকারি ডিগ্রি কলেজের মাস্টার্সের ছাত্রী। এবারের বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিতে বিশেষ কোচিং করার জন্য শান্তিনগর মহল্লার ওই ছাত্রী মেসে থাকতেন।

উদ্ধারকৃত চিরকুটে লিখা ছিল, ‘আমার মৃত্যুর জন্য আমি নিজেই দায়ী। আমার ক্যানসার হয়েছে, তাই আমি জীবনটা কারো সাথে জড়াতে চাচ্ছিলাম না। আমি আমার জীবনটা নিজের হাতে শেষ করে গেলাম এর জন্য কেউ দায়ী না।’

স্বামী জাহাঙ্গীর আলমের দাবি, ‘তীব্র মাথাব্যথা সহ্য করতে না পেরে তার স্ত্রী শাপলা আত্মহত্যা করেছেন।’

ওই ছাত্রী মেসে থাকা (নিবাসী) তাবাসসুম ও মুক্তাসহ অন্যরা জানান, প্রায় ৯ মাস আগে শাপলা খাতুনের বিয়ে হয়। বিসিএসের কোচিং করার জন্য তিনি এ ছাত্রী মেসে থাকতেন। অনেক দিন থেকে তীব্র মাথাব্যথা করত বলে শাপলা অন্যদের কাছে প্রায়ই বলতেন।

রোববার বিকালে তার প্রচণ্ড মাথাব্যথা করছে বলে আমাদের জানায়। রাতে তার কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ এবং কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে মোবাইল ফোনে আমরা তার স্বামীকে খবর দিই। পরে তার স্বামী এসে দরজা ভেঙে কক্ষের প্রবেশ করে দেখে যে তার মৃতদেহ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে। ওই সময় তার হাতে একটি চিরকুট পাওয়া যায়। তাতে লেখা ছিল- ‘আমার ক্যান্সার, আমি বাঁচব না। আমার মৃত্যুর জন্য আমি নিজেই দায়ী।’

জয়পুরহাট সদর থানার ওসি (তদন্ত) মো. মমিনুল হক বলেন, ছাত্রী আত্মহত্যার খবর পেয়ে আমি নিজে রাতেই ঘটনাস্থলে গেছি। প্রাথমিক সিমটম দেখে এটিকে ‘আত্মহত্যা’ বলেই মনে হয়েছে। যে কক্ষে তার মৃতদেহ পাওয়া গেছে তার দরজা-জানালা স্টিলের সিট ও গ্রিলের তৈরি, যা ভেতর থেকে শক্ত সিটকিনি দিয়ে বন্ধ করা ছিল।

তবু মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে তার মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

1 2 3